আঙুলের ছাপের অপব্যবহার করলে ৩০০ কোটি টাকা জরিমানা

sheikh hasena
বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম রেজিস্ট্রেশনের জন্য দেয়া আঙুলের ছাপ নিয়ে অপব্যবহার করলে মোবাইলফোন অপারেটরদের ৩০০ কোটি টাকা জরিমানা করা হবে। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠকে আবাসিক এলাকার পরিবেশ অক্ষুন্ন রাখতে কোনো বারের লাইসেন্স দেয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত  নিয়েছে মন্ত্রিসভা। এছাড়াও অনুমোদনহীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও আবাসিক এলাকায় থাকতে পারবে না বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। আবাসিক এলাকায় কোনো গেস্ট হাউজ ও হোটেল থাকলে তা ছয় মাসের মধ্যে সরিয়ে নিতে সুপারিশ করেছে মন্ত্রিসভা। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের
বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ব্রিফ করেন। তিনি জানান, সভায় আশ্বস্ত করা হয়েছে, বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম রেজিস্ট্রেশন করে নাগরিকরা কোনো হয়রানির শিকার হবেন না। সচিব বলেন, এই ছাপ সংরক্ষণ করা হয় না। এটি অপব্যবহারের সুযোগও নেই। এর পরও যদি কোনো নাগরিক আঙুলের ছাপ দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হন, তাহলে যে অপারেটর এই আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করেছিল, তাদের বিরুদ্ধে ওই নাগরিকের বিষয়ে ৩০০ কোটি টাকা জরিমানা করা হবে। আজকের বৈঠকে এমন সিদ্ধান্তই নিয়েছে মন্ত্রিসভা। আঙুলের ছাপ নিয়ে সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন নিয়ে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ও সন্দেহ তৈরি হচ্ছে বলে মন্ত্রিসভা মনে করে। মন্ত্রিসভা আজ এ বিষয়টি নিয়ে জনগণকে আশ্বস্ত করার জন্য এসব সিদ্ধান্ত নেয়। সচিব বলেন, আমি নিজেও আমার ব্যবহার করা সিমকার্ডটি আঙুলের ছাপ দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করেছি। আমার জানামতে, মন্ত্রিসভার সদস্যরাও করেছেন। আমরা শুনতে পাই, আঙুলের ছাপ দিয়ে জায়গা-জমি হাত করা হতে পারে, অন্য বড় ক্ষতি হতে পারে বলে গুজব শোনা যাচ্ছে। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, এ ধরনের কোনো আশংকা নেই। তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের কল্যাণের জন্যই বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে আঙুলের ছাপ দিয়ে সিম নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। এখানে যে চারটি আঙুলের ছাপ নেয়া হচ্ছে, তা কোথাও সংরক্ষণ করা হচ্ছে না। এর পরও যদি কোনো নাগরিকের মধ্যে সন্দেহ থাকে, তাহলে আমরা তাদের উদ্দেশে মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করতে চাই- যদি কোনো নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হন, এবং যে অপারেটর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তাহলে তাকে ৩০০ কোটি টাকা জরিমানা করা হবে। এটি আইনেও আছে। কোন আইনের মাধ্যমে এই জরিমানা করা হয়েছে এবং কীভাবে তা আদায় করা হবে- তা জানতে চাইলে মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, নাগরিক অধিকার সুরক্ষা এবং অপারেটরদের যে লাইসেন্স দেয়া হয়েছে, সেখানে এই কথা বলা আছে। উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বর থেকে সিম নিবন্ধনে আঙ্গুলের ছাপ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করার গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আড়াই মাসে দেড়কোটিরও বেশি মানুষের আঙ্গুলের ছাপ সংগ্রহ করে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো। আগামী এপ্রিলের মধ্যেই আরো ১১ কোটির বেশি মানুষের আঙুলের ছাপ নিয়ে সিম নিবন্ধন করা হবে। তবে মোবাইলফোনের সিম ব্যবহার করতে বিশ্বের প্রায় কোনো দেশেই আঙুলের ছাপ জমা দিতে হয় না। সর্বপ্রথম পাকিস্তানে চালুর পর সৌদি আরবেও সম্প্রতি এই ব্যবস্থা চালু হয়েছে। পাকিস্তানের আদলে বাংলাদেশে আঙুলের ছাপ জমা নেয়া শুরু হলে সামাজিক মাধ্যমে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রশ্নে বিতর্ক শুরু হয়। তরুণদের অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, কেন তারা বেসরকারি মোবাইল কোম্পানির ডিভাইসে আঙ্গুলের ছাপ দেবেন এবং এই ছাপের যে অপব্যবহার হবে না তার নিশ্চয়তা কী।

No comments:

Post a Comment

 

Translate

Total Pageviews

 
Blogger Templates